পৃষ্ঠাসমূহ / Pages

আমার ইউরোপ ভ্রমন (From my Europe album)

বাকিং হাম প্যালেস, লন্ডন
 ইউরোপ ভ্রমনের ইচ্ছা ছিল অনেক দিনের। এই গ্রীষ্মে তা সফল হল। ইউরোপ এবং বিশেষভাবে সুইজারল্যান্ডে মাসাধিক কাল কাটিয়ে এলাম। এই ভ্রমন কাহিনীতে তারই সংক্ষিপ্ত বর্ননা ( ছবিসহ )।

হিথরো বিমানবন্দরে আমাদের বিমান যখন নামল, তখন সন্ধ্যা ৮টা বেজে ১৫ মিনিট কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার  তখনও দিনের আlলো  বিদ্যমান। ব্যাপারটা শুনেছি কিন্তু চোখে  দেখে আবাকই হলাম। একটু বেখাপ্পা লাগল আমাদের চোখে। দেখে অভ্যস্থ নই তাই আর কি।  ট্যুর কম্পানি আমাদের অভ্যর্থনা করে হোটেলে তুলল। ততক্ষনে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। সকাল ৭টায় রেডী হয়ে ব্রেকফাস্ট করার জন্য নামতে হবে তাই একটু গুছিয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম।


Tower Bridge
 জানতাম না ইউরোপে নলের জল মাত্রেই পানীয় জল। হোটেল রুমে তাই জল দেবার কোন ব্যবস্তা নেই । কেও জল দিল না।  গ্লাস রাখা থাকে। তা দিয়ে তুমি মদ বা জল পান করতে পার।  Standard Hotel-এ মিনি বার (Mini Bar বা Mini Fridge)-এ জলসহ অন্যান্য ড্রিঙ্কস রাখা থাকে যা পয়সা দিয়ে কিনতে হয়। তাই হয় কলের জল পান করার জন্য প্রস্তুত থাকো কিম্বা ২৫০ টাকা দিয়ে এক বটল জল কিনে পান করতে পার। এটা আমাদের ট্যুর কম্পানী থেকে বলে দিয়েছিল, তাছাড়া হোটেল রিসেপ্সন থেকেও তাই বলল। কলের জল খাওয়াই ঠিক করলাম। কলের জল খেয়েও কারও পেটের গোলমাল হয়নি।
London Eye
এত গেল জলের ব্যাপার। এবার জানতে পারলাম Morning Tea বলে কোন বস্তু  বা সার্ভিস নেই কারন তাদের রেস্তোর‍্যান্ট সুরু হয় সকাল ৭টায়। ভোর ৬টায় চা পাওয়া যাবে না। আমাদের ট্যুর কম্পানী বলেছিল যদি পারেন একটা Electric Kettle আর একটা মগ সঙ্গে নিতে। Kettle আর নেওয়া হয়নি তবে রুমে কেটল রাখা ছিল। কিন্তু চা চিনি ? গরম জল? সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর  আবিষ্কার করলাম চা, চিনি, মিল্ক পাওডার/ কফি পাওডার সবই রাখা ছিল । কলে সব সময় গরম জল থাকে কাজেই চা বানানো কনো ব্যাপার ছিল না।

ব্রেকফাস্ট সারা হয়েছে।
আরেকটা ব্যাপার- Dry বাথরুমের concept.  প্রতিটা হোটেলে তাই বাতটাব'এর ব্যাবস্থা ছিল তাই চান করা এক জকমারি ব্যাপার  ছিল।সঙ্গে টয়লেট পেপার ব্যাবহার। যাইহোক এসবে অভ্যস্থ হতে হয় নইলে alternate কিছু করতে হয়। এই কারনেই আমাদের ট্যুর কম্পানি একটা মগ রাখতে বলেছিল।

হোটেলে প্রাতঃরাশের এলাহি আয়োজন থাকে কিন্তু বিশেষ কিছু খাওয়া যায়না। ব্রেড, বাটার, জ্যাম, করনফ্লেক্স, ফ্রুট জুস  খেয়ে পেট ভরাতে হত। চেনা আইটেম বলতে এইগুলোই থাকতো। এ থেকেই কিছ কিছু খেয়ে সারা হত ব্রেকফাস্ট। আমাদের প্রতিদেনের Routine ছিল- ৬টায় wakeup call, ৭টায় at breakfast table, ৮টায় বাসে।এইভাবেই লন্ডন থেকে শুরু হলো আমাদের ইউরোপ ভ্রমন।


ট্রেনের ভেতর বাস, বাসের ভেতর আমরা
লন্ডনের দ্রষ্টব্য জায়গাগুলো panoromic (বাসে বসে) দেখান হল । শুধু বাকিং হাম প্যালেস ছাড়া। এখানে কিছুক্ষন সময় দেওয়া হয়েছিল। In fact তিন ঘন্টায় লন্ডন ভালভাবে দেখা হয় না। লন্ডন include করার জন্য ভিসা ইত্যাদির আলাদা খরছ হয়েছে অথচ ভালভাবে দেখাও হল না। আসলে ট্যুর কম্পানিগুলো লন্ডন লিস্টে রাখে ভিসা করার জন্যই। London Visa পাওয়া বেশ শক্ত, আর এটা পেয়ে গেলে অন্য ভিসাগুলো পাওয়া সহজ হয়ে যায়।আমাদের ট্যুর কম্পানিও আগে UK ভিসা করায় তারপর সেঞ্জেন ভিসা অ্যাপ্লাই করে এবং সহজেই তা হয়ে যায়। লন্ডন টুর ৩/৪ ঘন্টায় শেষ করে English Channel পার করে প্যারিসের উদ্দেশে ফ্রান্সে প্রবেশ করি।  Car, Bus,  English Channel পার করার জন্য বিশেষ ট্রেন চলে। আমাদের বাসটিও ট্রেনে তোলা হল, প্যাসেঞ্জার সহ। ৩৫মিনিটে ইংলিশ চ্যানেল পার করে প্যারিসের উদ্দেশে বাস চলতে লাগল।
ইউরোপের রাস্তা অতি উত্তম মানের যা আমরা এই তৃতীয় বিশ্বে কল্পনাও করতে পারিনা। এই মসৃন রাস্তায় দিনে ৬০০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার বাসে ভ্রমন করেছি কিন্তু এতটুকু ক্লান্ত হইনি। 

সন্ধে নাগাদ স্বপ্ননগরী প্যারিসে পৌঁছালাম। বেলা থাকতে থাকতে সন্ধে সাতটায় Indian Restaurant'এ Dinner সারা হল। ডাল, তারকারী, চিকেন দিয়ে বেশ তৃপ্তি করে খাওয়া সারা হল।
(ক্রমশঃ)
পরবর্তী পোস্ট - অ্যান ইভিনিং ইন প্যারিস



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন