পৃষ্ঠাসমূহ

অ্যান ইভিনিং ইন প্যারিস

কে ভেবেছিল আমি প্যারিসে আসব এবং  An Evening in Paris-এর স্মৃতি নিয়ে ফিরব।  আমরা Dinner সেরে তাড়াতাড়ি হোটেলে নির্দিষ্ট রুমের চাবি নিয়ে ফ্রেশ হয়ে পোশাক পালটে বেরোতে বেরোতে ৮-৩০/৮-৪০ মিঃ হয়েই গেল। পোশাক পাল্টানোর প্রয়োজন হল লীডো Show'র জন্য। আমাদের বলা হয়েছিল টি শার্ট বা জিন্স পরে যেন না যাই। কোট প্যান্ট টাই বা শার্ট প্যান্ট পরে যেতে বলা হয়েছিলো কারন লীডো শোতে নাকি এলিটরা যায়। কাজেই ক্যাজুয়েল পোশাকে না যাওয়াই ভাল। তাই পোশাক পাল্টাতেই হল। আমাদের টার্গেট ছিল ০৯ টার CRUISE টা ধরার। Seine (সীন) নদীতে ১ ঘন্টার ক্রুইজ। তারপর লীডো Show. আমাদের Tour Guide আগেই বলেছিল প্যারিসে ট্রাফিক জ্যাম আছে। তাই সত্য হল। আমাদের আইফেল টাওয়ার পৌঁছাতে সাড়ে ৯টা বেজে গেল। দশটার ক্রুইজ ছাড়া উপায় নেই। ম্যানেজার আমাদের সবাইকে টিকেট দিয়ে দিল। আমরা লাইনে দাড়ালাম। আইফেল টাওয়ার ততক্ষনে আলো জ্বলতে শুরু করেছে। প্রতি ঘন্টায় আইফেল টাওয়ার Twinkling করে। তারমানে দশটার সময় ক্রুইজ শুরু হবে এবং তখনি টাওয়ারের লাইট নিভে যাবে এবং Twinkling শুরু হবে। আমরা ক্যামেরা তাক করে অপেক্ষা করতে লাগলাম। আইফেল টাওয়ারের খুব কাছেই ক্রুইজের জেটি। যথাসময়ে দুটিই একসঙ্গে শুরু হল। জাহাজ থেকে যথাসাধ্য তোলার চেষ্টা করলাম।
video
চলন্ত জাহাজ থেকে তোলা তাই মনে হচ্ছে আইফেল টাওয়ারটাই দুলছে। আসলে জাহাজ দুলছে, আমার ক্যামেরাও দুলছে।
একঘন্টার ক্রুইজ, ১০ টা থেকে ১১টা। আবার ১১ টায় লীডো শো। সে কথায় পরে আসছি। আগে SEINE নদীতে ক্রুইজ করি। রাত ১০ টা কিন্তু এখানে সবে সন্ধ্যা হল। তাই যখন নদীর পাড় ঘেঁসে আমাদের জাহাজটা এগোচ্ছিলো তখন পাড়ে প্রচুর মহিলা পুরুষ, তরুন তরুনীরা আড্ডা, গান বাজনায় ব্যাস্ত । নদীর পাড় বাঁধানো এবং বসার ভাল ব্যাবস্থা করা আছে। তরুন তরুনীরা জোড়ায় জোড়ায় বা দল বেঁধে বসে আছে। আমাদের হাত দেখিয়ে, চিৎকার করে স্বাগত জানাচ্ছিলো।

এই সীন নদীর দুই পাড়ে  সব ঐতিহাসিক ইমারতগুলো ও প্যারিসের সব ল্যান্ডমার্ক  অবস্থিত। আইফেল টাওয়ারও এই নদীর পাড়ে। সব লাইট দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো। এগারোটায় আমাদের ক্রুইজ শেষ হল। এরপর লীডো শো। 
Photo Credit to WIKIPEDIA
প্যারিসের  অভিজাত Champs-Elysees এভিন্যুতে লিডো থিয়েটার। সাড়ে ১১টায় শো। বিশাল লাইন। ট্যুর ম্যানেজার ম্যানেজ করে আমদের সবার আগে যাবার ব্যাবস্থা করে দিল। আমরা ভাল সামনের সীট পেয়ে গেলাম। আমরা দুজনে একটা সোফায় বসলাম।একটু পরেই স্যাম্পেন / সফট ড্রিঙ্ক পরিবেশন হল। আমাদের ড্রিঙ্ক শেষ হতেই শো শুরু হল।

আমাদের ট্যুর ম্যানেজার আগেই বলেছিল - শো' তে টপলেশ ন্যুডিটি থাকবে কিন্তু সবই আর্টিষ্টিক, নান্দনিকভাবে উপস্থাপিত করা হয়, কোনরুপ vulgerity থাকে না।  গান দিয়ে শো শুরু হলো । এক সুন্দরি মহিলা স্টেজের উপর হতে নেমে এলেন, তারপর গান গাইতে শুরু করলেন। তারপরেই স্টেজে একঝাঁক পরীর মত মেয়েরা উপস্থিত। বক্ষদেশ উন্মুক্ত। নিম্নাংশ স্কিন কলর চাপা ড্রেস দিয়ে আবৃত। ফলে তাদের নগ্ন বলেই মনে হয়। যাই হোক তারা স্টেজের সামনে এসে দুই হাত প্রসারিত করে তাদের অপুর্ব বক্ষসম্পদ দর্শকদের সামনে মেলে ধরল, নানান ভঙ্গিমায়, গানের তালে তালে। তারা সবাই রিতিমত সুন্দরী, কম বয়েসী যুবতী, শারিরিক গঠন  সৌন্দর্যমন্ডিত, দু চোখভরে দেখার মত। নারী সৌন্দর্যের এক  অপুর্ব নিদর্শন। দর্শকবৃন্দ সব নিশ্চুপ, পিন ড্রপ সাইলেন্স। সবাই সৌন্দর্য্যসুধা পানে ব্যাস্ত। একবার নয় বারবার সেই সৌন্দর্য্যসুধা পানের সুযোগ এলো। এটা আসলে এক ধরনের ্যাবারে শো, রুচিসম্মত  এবএলিটদের জন্য । 
এই শতে আনেক কিছুই দেখার আছে। এখানে স্টেজ, লাইটিং এবং সীন পাল্টানোর ব্যাপারগুলো খুবই সুনিপুন ভাবে করা হয় । সবই স্বয়ংক্রিয় (Automatic). ইন্ডিয়া  থীমে খাজুরাহ মন্দির এবং তার শিল্পকলা নাচ ও গানে তার বর্ননা করল। মন্দির স্টেজের নিচে থেকে উঠে এল, স্বয়ংক্রিয়ভাবে  এবং মন্দিরগাত্রের মুর্তিগুলো আস্তে আস্তে জীবন্ত হয়ে স্টেজে নেমে এল।এটা বেভাল লাগলো।
Theme:Khajuraho India (Photo Credit : www.favilletours.com)

খন শো শেষ হল খন রাত ১-৩০টা। বাইরে তখন রাস্তায় মানুষের এবং গাড়ীর ঢল দেখে মনে হচ্ছে কলকাতার সন্ধে সাতটা।
্যারিস এসে লিডো শো না দেখলে প্যারিস ভ্রমন অসম্পূর্ন ।  ভাবতে অবাক লাগে এই শো 1946 থেকে একটানা চলে আসছে।




শুভ বিজয়া


সবাইকে জানাই আমার শুভ বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা ।

পশ্চিমবঙ্গের নাম হউক "বাংলা"

“বাংলার মাটি, বাংলার জল, বাংলার বায়ু, বাংলার ফল-
পুন্য হউক, পুন্য হউক, পুন্য হউক হে ভগবান।।
বাংলার ঘর, বাংলার হাট, বাংলার বন, বাংলার মাঠ-
পূর্ণ হউক,পূর্ণ হউক,পূর্ণ হউক হে ভগবান।।“
                                                   – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এর পরেও কি “বাংলা” নামটা অযৌক্তিক মনে হবে? রবীন্দ্রনাথ তাঁর রচনায় পূর্ব ও পশ্চিমবাংলাকে  বাংলা বা বাংলাদেশ বলেই উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেশী বাংলাদেশ তাদের উপযুক্ত নামটা  আগেই নিয়েছে। “বাংলা” নামটা নিতে আমাদের এত অনীহা কেন ?

আমাদের রবীন্দ্র আনুরাগী মুখ্যমন্ত্রী , “বাংলা” নামটা এড়িয়ে, পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন কেন? বাংলা নামটা যেহেতু CPM পার্টী উত্থাপন করেছে তাই কি? আমাদের অনুরোধ ক্ষুদ্র রাজনীতির গন্ডী থেকে বেরিয়ে “বাংলা” (also in English “BENGAL”) নামটা পুনর্বিবেচনা করে গ্রহন করুন ।. এটাই হবে সবচেয়ে উপযুক্ত নাম। রবীন্দ্রনাথের জন্ম সার্ধশতবর্ষে এর চেয়ে ভাল শ্রদ্ধার্ঘ আর কি হতে পারে?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জ্জীকে আনুরোধ আপনি একটু ভেবে দেখুন। পশ্চিমবঙ্গ নামটা কোনমতেই গ্রহনযোগ্য হবে না। "বাংলা" এবং ইংরাজীতে "BENGAL" হবে উপযুক্ত নামকরন। দুটোই থাকবে যেমন ভারত এবং ইন্ডিয়া । "Bengal" নামটা ইতিহাসের অনেক ঘটনার সাক্ষী, তাই এটাকেও সহজে ত্যাগ করা যাবে না। তা না হলে- আমাদের Royal Bengal Tiger হবে - Royal পশ্চিমবঙ্গীয় Tiger । আমাদের আনুরোধ তাড়াহুড়ো করে, গভীরে চিন্তা ভাবনা না করেই একটা যেমন তেমন ভাবে নামকরন করবেন না।

আমার ইউরোপ ভ্রমন

বাকিং হাম প্যালেস, লন্ডন
 ইউরোপ ভ্রমনের ইচ্ছা ছিল অনেক দিনের। এই গ্রীষ্মে তা সফল হল। ইউরোপ এবং বিশেষভাবে সুইজারল্যান্ডে মাসাধিক কাল কাটিয়ে এলাম। এই ভ্রমন কাহিনীতে তারই সংক্ষিপ্ত বর্ননা ( ছবিসহ )।

হিথরো বিমানবন্দরে আমাদের বিমান যখন নামল, তখন সন্ধ্যা ৮টা বেজে ১৫ মিনিট কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার  তখনও দিনের আlলো  বিদ্যমান। ব্যাপারটা শুনেছি কিন্তু চোখে  দেখে আবাকই হলাম। একটু বেখাপ্পা লাগল আমাদের চোখে। দেখে অভ্যস্থ নই তাই আর কি।  ট্যুর কম্পানি আমাদের অভ্যর্থনা করে হোটেলে তুলল। ততক্ষনে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। সকাল ৭টায় রেডী হয়ে ব্রেকফাস্ট করার জন্য নামতে হবে তাই একটু গুছিয়ে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম।


Tower Bridge
 জানতাম না ইউরোপে নলের জল মাত্রেই পানীয় জল। হোটেল রুমে তাই জল দেবার কোন ব্যবস্তা নেই । কেও জল দিল না।  গ্লাস রাখা থাকে। তা দিয়ে তুমি মদ বা জল পান করতে পার।  Standard Hotel-এ মিনি বার (Mini Bar বা Mini Fridge)-এ জলসহ অন্যান্য ড্রিঙ্কস রাখা থাকে যা পয়সা দিয়ে কিনতে হয়। তাই হয় কলের জল পান করার জন্য প্রস্তুত থাকো কিম্বা ২৫০ টাকা দিয়ে এক বটল জল কিনে পান করতে পার। এটা আমাদের ট্যুর কম্পানী থেকে বলে দিয়েছিল, তাছাড়া হোটেল রিসেপ্সন থেকেও তাই বলল। কলের জল খাওয়াই ঠিক করলাম। কলের জল খেয়েও কারও পেটের গোলমাল হয়নি।
London Eye
এত গেল জলের ব্যাপার। এবার জানতে পারলাম Morning Tea বলে কোন বস্তু  বা সার্ভিস নেই কারন তাদের রেস্তোর‍্যান্ট সুরু হয় সকাল ৭টায়। ভোর ৬টায় চা পাওয়া যাবে না। আমাদের ট্যুর কম্পানী বলেছিল যদি পারেন একটা Electric Kettle আর একটা মগ সঙ্গে নিতে। Kettle আর নেওয়া হয়নি তবে রুমে কেটল রাখা ছিল। কিন্তু চা চিনি ? গরম জল? সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর  আবিষ্কার করলাম চা, চিনি, মিল্ক পাওডার/ কফি পাওডার সবই রাখা ছিল । কলে সব সময় গরম জল থাকে কাজেই চা বানানো কনো ব্যাপার ছিল না।

ব্রেকফাস্ট সারা হয়েছে।
আরেকটা ব্যাপার- Dry বাথরুমের concept.  প্রতিটা হোটেলে তাই বাতটাব'এর ব্যাবস্থা ছিল তাই চান করা এক জকমারি ব্যাপার  ছিল।সঙ্গে টয়লেট পেপার ব্যাবহার। যাইহোক এসবে অভ্যস্থ হতে হয় নইলে alternate কিছু করতে হয়। এই কারনেই আমাদের ট্যুর কম্পানি একটা মগ রাখতে বলেছিল।

হোটেলে প্রাতঃরাশের এলাহি আয়োজন থাকে কিন্তু বিশেষ কিছু খাওয়া যায়না। ব্রেড, বাটার, জ্যাম, করনফ্লেক্স, ফ্রুট জুস  খেয়ে পেট ভরাতে হত। চেনা আইটেম বলতে এইগুলোই থাকতো। এ থেকেই কিছ কিছু খেয়ে সারা হত ব্রেকফাস্ট। আমাদের প্রতিদেনের Routine ছিল- ৬টায় wakeup call, ৭টায় at breakfast table, ৮টায় বাসে।এইভাবেই লন্ডন থেকে শুরু হলো আমাদের ইউরোপ ভ্রমন।


ট্রেনের ভেতর বাস, বাসের ভেতর আমরা
লন্ডনের দ্রষ্টব্য জায়গাগুলো panoromic (বাসে বসে) দেখান হল । শুধু বাকিং হাম প্যালেস ছাড়া। এখানে কিছুক্ষন সময় দেওয়া হয়েছিল। In fact তিন ঘন্টায় লন্ডন ভালভাবে দেখা হয় না। লন্ডন include করার জন্য ভিসা ইত্যাদির আলাদা খরছ হয়েছে অথচ ভালভাবে দেখাও হল না। আসলে ট্যুর কম্পানিগুলো লন্ডন লিস্টে রাখে ভিসা করার জন্যই। London Visa পাওয়া বেশ শক্ত, আর এটা পেয়ে গেলে অন্য ভিসাগুলো পাওয়া সহজ হয়ে যায়।আমাদের ট্যুর কম্পানিও আগে UK ভিসা করায় তারপর সেঞ্জেন ভিসা অ্যাপ্লাই করে এবং সহজেই তা হয়ে যায়। লন্ডন টুর ৩/৪ ঘন্টায় শেষ করে English Channel পার করে প্যারিসের উদ্দেশে ফ্রান্সে প্রবেশ করি।  Car, Bus,  English Channel পার করার জন্য বিশেষ ট্রেন চলে। আমাদের বাসটিও ট্রেনে তোলা হল, প্যাসেঞ্জার সহ। ৩৫মিনিটে ইংলিশ চ্যানেল পার করে প্যারিসের উদ্দেশে বাস চলতে লাগল।
ইউরোপের রাস্তা অতি উত্তম মানের যা আমরা এই তৃতীয় বিশ্বে কল্পনাও করতে পারিনা। এই মসৃন রাস্তায় দিনে ৬০০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার বাসে ভ্রমন করেছি কিন্তু এতটুকু ক্লান্ত হইনি। 

সন্ধে নাগাদ স্বপ্ননগরী প্যারিসে পৌঁছালাম। বেলা থাকতে থাকতে সন্ধে সাতটায় Indian Restaurant'এ Dinner সারা হল। ডাল, তারকারী, চিকেন দিয়ে বেশ তৃপ্তি করে খাওয়া সারা হল।
(ক্রমশঃ)
পরবর্তী পোস্ট - অ্যান ইভিনিং ইন প্যারিস



শিল্পনগরী চিত্তরঞ্জন


আমি কলকাতা থেকে দুপুর নাগাদ পৌছালাম। দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর সামনের বারান্দায় বসে বিশ্রাম করছিলাম। কিন্তু পরক্ষনেই এই শিল্পনগরীর নিঝুম নির্জনতা আমাকে গ্রাস করল এবং সেটাই আমার কাছে উপভোগ্য হয়ে ঊঠল কারন  মহানগরীতে  যা  উপলব্ধি করা যায় না তা এই  ছোট শহরে এসে প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হল। আমের মঞ্জরীর  মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছিলাম,  চারিদিক ম ম করছে। মহানগরের যন্ত্রনাদায়ক যান্ত্রিক শব্দে অভ্যস্ত আমার কান ভুলে যাওয়া নানা পাখির কাকলিতে সজাগ হয়ে উঠলো। মনে হল কোন বনবাংলোয় বসে আছি। নির্জন দুপুরে প্রকৃতির এই বিচিত্র  সৌন্দর্য্য  ঊপভোগ করতে লাগলাম। এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা যা আগে  মহানগরীতে হওয়া দুরের কথা, এই নগরীতেও আগে কখনো হয়নি।  চারিদিকে কংক্রিটের জংগল তৈরী হচ্ছে কিন্তু এই শহরে সেই ধরনের কোন "জংগলায়ন" হচ্ছে না । এখানে সবুজায়ন সফল ভাবে হয়েছে যার ফলে পাখির সংখা বেড়েছে ।
চিত্তরঞ্জন রেল কলোনীর একটি রাস্তা
শিল্পনগরী চিত্তরঞ্জন। এই শহরের অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম সীমানায়, আধুনা ঝাড়খন্ডের গা ঘেঁসে।  চিত্তরঞ্জনের পশ্চিমে মিহিজাম । এই ছোট জনপদটির জলবায়ু একদা মধুপুর শিমুলতলার মতোই  স্বাস্থকর  ছিলো এবং স্বাস্থোদ্ধারের জন্য বহু বাঙ্গালী ধনীদের এখানে বাড়ী ছিলো। এই বাড়ীগুলি বিশাল এরিয়া জুড়ে  বাগান ঘেরা হতো।  এই মিহিজাম আরো একটি কারনে বিখ্যাত ছিলো । ডাক্তার পরেশ ব্যানার্জীর দাতব্য চিকিৎসালয় (Homoeo) । এই চিকিৎসালয়ে প্রতিদিন আসে পাসের গ্রাম গঞ্জ থেকে  বহু লোক ঔষুধের জন্য ভীড় করত। সবই ছিল বিনামুল্যে। এই  পান্ডব বর্জিত অঞ্চলে বহুলোক সাপের কামড়ে মারা  যেত। সাপের কামড়ের জন্য ডাঃ পরেশ ব্যানার্জী "লেক্সীন" নামে একটি  ঔষূধ আবিষ্কার করেছিলেন বলে আমার  শোনা।

"B" টাইপ কোয়ার্টার
১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের এই অনুন্নত অঞ্চলে রেল কারখানা  স্থাপিত হয়। বিধান রায়ের মুখ্যমন্ত্রীত্বের আমলে।  দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের নামে নামকরন হয় চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা (CLW) ।  এই কারখানা থেকে প্রথম রেল ইঞ্জিন (STEAM ENGINE) বের হয় ২৬ জানুয়ারী ১৯৫০। গড়ে ওঠে বিশাল এক  পরিকল্পিত শহর। এই শহর গড়তে বহু জমি (অবশ্যই  কৃষিজমি সহ) প্রয়োজন হয়েছিল। জমির জন্য সেদিন  বহু গ্রামকে  স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। আজকের  রাজনীতি  তখন থাকলে এটাকে উচ্ছেদ এবং ভিটেছাড়া বলে বিরোধীতা করে, গ্রামের গরীব গুর্বো সরল মানুষদের নিয়ে রাজনীতি করে এই   কারখানার দফা রফা  করে ছাড়ত। সেদিনও জমির মালিকেরা সবাই যে প্রথমে খুশি ছিল  তা নয়। তবে সেদিন তাদের পাশে কোন রাজনৈতিক পার্টী দাঁড়ায়নি বা ভোটের রাজনীতি করেনি। শিল্পের জন্য সবই হয়েছিল শান্তিপুর্নভাবে ।  বহু বহু লোক চাকুরী পেয়ে এই শিল্প নগরীতে বাস করে উন্নত জীবন যাত্রায় সামিল হতে পেরেছিল এবং  তাদের ছেলেমেয়েরা  আজও এই শিল্পস্থাপনাকে আশীর্বাদ বলেই মনে করে। কারন আজ তারা এক উন্নত শহরে বাস করে , উন্নত জীবন যাপন করতে পারছে। সেইসব  অখ্যাত গ্রামগুলির নামে নাম  হয়েছে  রেল কলোনীর এক একটা অঞ্চলের  এবং  সেইসব হারিয়ে যাওয়া  গ্রামগুলি এই কংক্রিটের জঙ্গলে  চাপা পড়েও  আজো বেঁচে আছে। নামগুলো সুন্দর -  যেমন আমলাদহি, ফতেপুর এবং সিমজুড়ি । এই তিনটি গ্রাম এই শিল্পায়নে  শহিদ হয়ে আজও অমর হয়ে আছে ।

তখন আজকের চিত্তরঞ্জন রেল ষ্টেশনটির নাম ছিল মিহিজাম। চিত্তরঞ্জন শিল্প নগরী স্থাপিত হওয়ার পর,  ষ্টেশনটির নাম পালটে হয় চিত্তরঞ্জন। চিত্তরঞ্জন রেল কারখানা পশ্চিমবঙ্গে এবং মিহিজাম  ষ্টেশনটি ঝাড়খন্ডে, তবুও  চিত্তরঞ্জন রেল কারখানাকে ভারতীয় রেলের মানচিত্রে তুলে আনার জন্য  ষ্টেশনটির নামকরন হয় চিত্তরঞ্জন। তাছাড়া চিত্তরঞ্জন মিহিজামের তুলনায় এক বিশাল জনপদ তাই নামকরন খুবই যুক্তিযুক্ত এবং গ্রহনযোগ্য। অফিসার ও কর্মীদের জন্য প্রায় ৯০০০ কোয়ারটার্স আছে ও মনোরঞ্জনের জন্য দুটি সিনেমা হল- রঞ্জন ও শ্রীমতি ও একটি মুক্তমঞ্চ - "রবীন্দ্রমঞ্চ"  আছে ।  দুটি খেলার মাঠ  আছে  ( ওভাল ও শ্রীলতা) যেখানে নানাধরনের খেলা ধুলা আয়োজিত হয়ে থাকে। এখানে প্রতি পল্লীতে  একটি কম্যুনিটি হল আছে, যেখানে প্রতিবছর দুর্গাপুজা আয়োজন হয়ে থাকে।
 সব কিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই শহরটারও কিছু পরিবর্তন হয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য  কিছু নয়। শহরটা  আগের চেয়ে  অনেক বেশি সবুজ হয়েছে।  সবারই আগের তুলনায় জীবন যাত্রার মান অনেক বেড়েছে। সেই সঙ্গে স্কুটার ও মোটর গাড়ীর সংখা বেড়েছে। আগে সাইকেল ও স্কুটার/ মোটর সাইকেল দেখা যেত।

শহরের প্রতিটি রাস্তাই পিচের এবং  পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এই শহরে দুট বড় বড় জলাশয় আছে। শীতকালে সেখানে পরিযায়ী পাখির আগমন হতো, এখন হয় কি না জানা নেই। "হিলটপ" (Hill top) চিত্তরঞ্জনের  নিজস্ব  এক হিল ষ্টেশন যেখান থেকে একনজরে শহরটাকে দেখা যায়। তবে সবুজায়নের ফলে এখন আর কিছু দেখা যায় না।  সবুজে সবকিছু ঢাকা পড়ে গেছে।
বহুদিন পর আবার চিত্তরঞ্জন এলাম।  আমার কৈশোর ও যৌবনের কিছুটা সময় কেটেছে এই চিত্তরঞ্জন শিল্প নগরিতে। জন্ম মৃত্যু বিয়ে আর  চাকুরী কার কোথায় লেখা থাকে কেও জানে না। এখানে চাকুরী আমারও হয়েছিল কিন্তু ভালোটা বেছে নেবার জন্য আমাকে চিত্তরঞ্জন ছেড়ে বাইরে যেতে হয়েছিল। কাজেই এই শহরের প্রতি আমার একটা আলাদা মমতা  আছে। তাই এতসব লিখে ফেললাম।


মুর্শিদাবাদ ঘুরে এলাম

ইমামবাড়া। এটা বোধহয় এশিয়ার বৃহত্তম ইমামবাড়া।
হাজারদুয়ারী প্রাসাদ মিউজিয়াম
কাটরা মসজিদ। এখানে মুর্শিদ কুলি খাঁ, যাঁর নামে এই শহরের মুর্শিদাবাদ নাম হয়, সমাধিস্ত। এই শহরের ইতিহাস কমবেশী সকলের জানা। তাই ইতিহাস লিখতে চাইনা এখানে।

ভাগীরথীর তীরে সুর্যাস্ত।
কাঠ গোলা প্রাসাদ। এখানেই সত্যজিত রায় তাঁর "জলসাঘর"  ও উত্তম তনুজা অভীনীত "এন্টনি ফিরিঙ্গির" কিছু দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল।

সাপ্তাহান্তিক ভ্রমনের জন্য মুর্শিদাবাদ যাওয়া খুবই সহজ। হাজারদুয়ারি বা ভাগিরথী এক্সপ্রেসে উঠে বসলেই ৫ ঘন্টায় মুর্শিদাবাদ পৌঁছে যাওয়া যায়। সেখানে পৌঁছে আমার মত অনেকেই হোটেল মঞ্জুষায় ওঠে। কিন্তু ওটা একটা Substandard হোটেল। গরম জল, টিভি, ইন্টারকম নেই। রেস্তোঁরা আছে কিন্তু খাওয়ার অযোগ্য। মজার ব্যাপার হোটেলে কোণো RECEPTION  বা Full TIme Manager নেই।  হাজারদুয়ারি প্যালেসের কাছে এটাই একটা প্লাস পয়েন্ট। Room Rates are exorbitantly high. আমি  Internet search করে টেলেফোনে বুক করেছিলাম। এক রাত কোনোরকমে কাটিয়ে পরেরদিন সকালেChange করতে বাধ্য হয়েছিলাম।  HOTEL SAGNIK সব ব্যাবস্থা করে । ঘোরার ব্যাবস্থা ওরাই করে দেয়। SAGNIK একটা আধুনিক হোটেল। টিভি, ইন্টারকম, রেস্তোঁরা আছে এবং Rates are same as Manjusha. So be careful about it. সব ট্যুর অপারেটর ও হোটেল বুকিং এজেন্টরা এই হোটেলে বুক করে দেয়। হাজারদুয়ারির কাছে কিন্তু সমস্ত কিছু থেকে বিছিন্ন। আমার মত ভোগান্তি যেন না হয় তাই এই সাবধানবানী।